পিআর পদ্ধতি ছাড়া নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না

পিআর পদ্ধতি ছাড়া নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না



আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতি, জুলাই সনদের ভিত্তিতে নির্বাচন আয়োজন করাসহ পাঁচ দাবিতে সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জামায়াতে ইসলামী। গতকাল শুক্রবার এ কর্মসূচিতে দলটির নেতারা বলেছেন, জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে এ সরকার গঠিত হয়েছে। তাই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। সেই সঙ্গে সংসদের উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। পিআর ছাড়া কোনো নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না। জামায়াতে ইসলামীর অন্য দাবিগুলো হলো– অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা; ফ্যাসিস্ট সরকারের সকল জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান এবং ‘স্বৈরাচারের দোসর’ জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা।

যশোর
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে পাঁচ দাবিতে যশোরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জামায়াত। শুক্রবার বিকেলে শহরের ঈদগাহ্ মোড় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। এর আগে ঈদগাহ মোড়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন দলটির নেতাকর্মী। সমাবেশে জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসূল বলেন, ফ্যাসিবাদী প্রথা দূর করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। অথচ একটি রাজনৈতিক দল এখনও পিআর পদ্ধতির নির্বাচন সম্পর্কে অজ্ঞ। আমরা মনে করি, তারা রাজনৈতিকভাবে এখনও অপরিপক্ব।


বাগেরহাট
বাগেরহাটে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন জামায়াতের নেতাকর্মী। বিকেলে সদর উপজেলা ও বাগেরহাট পৌর জামায়াতের উদ্যোগে শহরের দশানী ট্রাফিক মোড় থেকে মিছিল শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় দশানী মোড়ে এসে শেষ হয়।  মিছিলের পর গণজমায়েত ও প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন জামায়াতের জেলা আমির রেজাউল করিম, সেক্রেটারি শেখ মুহাম্মদ ইউনুস, কর্মপরিষদ সদস্য ও যুব বিভাগের সভাপতি শেখ মনজুরুল হক রাহাদ প্রমুখ। বক্তারা বলেন, দেশের বেশির ভাগ মানুষ ও দল পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন চায়। পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন দিলে কোনো ভোট চুরি এবং স্বৈরাচার হওয়ার সুযোগ থাকবে না। পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন না হলে জামায়াতে ইসলামী নির্বাচন বিষয়ে সরকারকে কোনো সহিযোগিতা করবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন নেতারা। একই দাবিতে মোরেলগঞ্জ, কচুয়া, ফকিরহাট, মোংলাসহ জেলার সকল উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে। 

পিরোজপুর
পিরোজপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জামায়াত। শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে অবকাশ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এর আগে শহীদ মিনার চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন না হলে আরেকটি স্বৈরাচারী সরকার জন্ম নেবে। অনেক রক্তের বিনিময়ে ৫ আগস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়েছে। কোনো দলের ক্ষমতায় যাওয়ার লোভ-লালসায় জুলাই বিপ্লবের স্বাধীনতা নষ্ট করা যাবে না। ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ মানুষের ভোট নিয়ে শতভাগ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করার কোনো সুযোগ নেই। একমাত্র পিআর পদ্ধতির মাধ্যমেই নির্বাচন হলে শতভাগ মানুষের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে দেশ পরিচালিত হবে।

কিশোরগঞ্জ
কিশোরগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ 
করেছে জামায়াত। গতকাল বাদ জুমা জেলা শহরের শহীদি মসজিদের সামনে সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের আমির 
অধ্যাপক রমজান আলী, নায়েবে আমির অধ্যক্ষ আজিজুল হক, সাবেক নায়েবে আমির অধ্যাপক মোসাদ্দেক আলী, জেলা সেক্রেটারি নাজমুল ইসলাম প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, পাঁচ দাবি না মেনে নির্বাচন দিলে আবার পুরোনো ফ্যাসিবাদ স্বৈরাচার ফিরে আসবে; তাদের পুনর্বাসন হবে। জুলাই আন্দোলনে এত মানুষের আত্মদান বিফলে যাবে। একটি নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এসব দাবি পূরণের কোনো বিকল্প নেই। যতদিন এসব দাবি আদায় না হবে, ততদিন জামায়াত তার আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

নওগাঁ
নওগাঁয় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন জামায়াতের নেতাকর্মী। বিকেলে শহরের মুক্তির মোড় জেলা মডেল মসজিদের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহরের তাজের মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মহিউদ্দিন, সেক্রেটারি আ স ম সায়েম, নওগাঁ পৌর জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির ওবায়দুল ইসলাম প্রমুখ। এ ছাড়া রাণীনগরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে।এদিকে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা। সমাবেশে গোপালগঞ্জ জেলা শাখার আমির ও গোপালগঞ্জ-৩ (কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়া) আসনের 

জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক রেজাউল করিম 
বলেন, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে বাংলাদেশে আর কোনোদিন স্বৈরাচার দেখা যাবে না; ভোট কেনার জন্য কালো টাকার ছড়াছড়ি হবে না; সরকারি দল যা ইচ্ছা তাই করতে পারবে না। এ জন্য আমরা বলছি, পিআরের ভিত্তিতে নির্বাচন দিতে হবে। নীলফামারী শহরের ডিসি মোড়ে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে জামায়াতে ইসলামী। এতে সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার। পটুয়াখালী শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে। মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জামায়াত।

এ ছাড়া কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর, রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি, গাজীপুরের কালীগঞ্জ ও কালিয়াকৈর, নরসিংদী সদর, ফরিদপুরের সদরপুর, কুমিল্লার মুরাদনগর, চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা। (নিজস্ব প্রতিবেদক, অফিস, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতার পাঠানো তথ্য)