লন্ডনের তিন এলাকায় শিশু দারিদ্র্য চরমে, অনেক পরিবারে নেই ফ্রিজ
লন্ডনের অভিজাত আকাশচুম্বী অট্টালিকার ছায়াতলে থাকা বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে শিশু দারিদ্র্য ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে টাওয়ার হ্যামলেটস, হ্যাকনি ও নিউহ্যাম—এই তিন এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলো উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয় ও আবাসন সংকটে চরম বিপর্যস্ত।
সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, টাওয়ার হ্যামলেটসে শিশু দারিদ্র্যের হার ৫০ দশমিক ৩ শতাংশ, যা ইংল্যান্ডে সর্বোচ্চ। এরপরেই রয়েছে হ্যাকনি (৫০ দশমিক ১ শতাংশ) এবং নিউহ্যাম (৪৪ দশমিক ৯ শতাংশ)।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এসব এলাকায় দারিদ্র্য এতটাই প্রকট যে অনেক পরিবারের ঘরে সচল ফ্রিজ পর্যন্ত নেই। শীতকালে নষ্ট হয়ে যাওয়া ফ্রিজ মেরামতের সামর্থ্য না থাকায় অনেক পরিবারকে ব্যালকনিতে খাবার সংরক্ষণ করতে দেখা গেছে।
হ্যাকনি ফুডব্যাংকের এক কর্মী সাংবাদিকদের জানান, মহামারির পর থেকে তাদের সেবার চাহিদা প্রায় ৩০০ শতাংশ বেড়েছে। তিনি বলেন, উচ্চ ভাড়া ও অপর্যাপ্ত সরকারি ভাতার কারণে মানুষ মৌলিক চাহিদা মেটাতে পারছে না। অনেক সময় বাবা-মা নিজেরা না খেয়ে সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছেন।
নিউহ্যাম ও টাওয়ার হ্যামলেটসের বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি জনগোষ্ঠী বর্তমানে এই সংকটের প্রধান ভুক্তভোগী। টাওয়ার হ্যামলেটসের জনসংখ্যার প্রায় ৩৪ দশমিক ৬ শতাংশ এবং নিউহ্যামের ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ বাংলাদেশি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আয় অনুযায়ী অতিরিক্ত ঘরভাড়া ও মুদ্রাস্ফীতির কারণে তারা এক ধরনের অস্তিত্ব সংকটে পড়েছেন।
হ্যাকনির মেয়র ক্যারোলিন উডলি জানিয়েছেন, কাউন্সিল দারিদ্র্যের মূল কারণগুলো মোকাবিলায় কাজ করছে এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য কাউন্সিল ট্যাক্স কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয় প্রতিনিধি ও দাতব্য সংস্থাগুলোর মতে, এই সংকট নিরসনে আরও বড় পরিসরে সরকারি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।