নেসেটে আগাম নির্বাচনের বিল, ক্ষমতা হারাচ্ছেন নেতানিয়াহু?

নেসেটে আগাম নির্বাচনের বিল, ক্ষমতা হারাচ্ছেন নেতানিয়াহু?

ইসরায়েলের পার্লামেন্টে নেসেটে আগাম নির্বাচন এবং পার্লামেন্ট বিলুপ্ত করা সংক্রান্ত একটি বিল উত্থাপিত হয়েছে; আজ বুধবার সেটির ওপর ভোট দেবেন এমপিরা। যদি ভোটাভুটিতে প্রস্তাবটি পাস হয়— তাহলে নির্ধারিত সময়ের কয়েক সপ্তাহ আগেই জাতীয় নির্বাচন হবে ইসরায়েলে।

সাম্প্রতিক একাধিক জরিপ বলছে, যদি আগাম নির্বাচন হয়, তাহলে পরাজিত হবেন ইসরায়েলের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু; এমনকি যদি নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন হয়, তাহলেও নেতানিয়াহু এবং তার দল লিকুদ পার্টির জয়ের আশা খুবই ক্ষীণ।

ইসরায়েলে সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচন হয়েছিল ২০২২ সালের মে মাসে। সংবিধান অনুসারে আগামী নির্বাচন হবে চলতি ২০২৬ সালের ২৭ অক্টোবর।

যদি আজকের ভোটাভুটিতে বিলটি পাস হয়, সেক্ষেত্রে পার্লামেন্ট ভেঙে যাবে। তারপর নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ বিষয়ক আলোচনা শুরু হবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে। ইসরায়েলের রাজনীতি বিশ্লেষকদের একাংশের ধারণা, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি হতে পারে নির্বাচন।

মূলত কট্টরপন্থি ইহুদি দলগুলোর দাবির প্রেক্ষিতেই নেসেট ভেঙে দেওয়ার বিলটি উত্থাপিত হয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে এসব দল লিকুদ পার্টি এবং নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র হলেও চলতি মাসে দলগুলো জানায় যে নেতানিয়াহুকে তারা আর জোট শরিক হিসেবে দেখতে ইচ্ছুক নয় এবং আগাম নির্বাচন হওয়া প্রয়োজন। চলতি মে মাসের শুরুর দিকে বিলটি উত্থাপিত ও পাস হয়। আজ বুধবার সেটির ওপর ভোট হবে।

২০২২ সালের নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে যে জোট সরকার গঠিত হয়েছে, সেটি ইতোমধ্যে ইসরায়েলের ইতিহাসের সবচেয়ে কট্টর, ডানপন্থি ও রক্ষণশীল সরকারের স্বীকৃতি পেয়েছে।

ইসরায়েল ও ইসরায়েলিদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন নেতানিয়াহু, নির্বাচনে জয় পেয়েছিলেন; কিন্তু ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের অভাবনীয় হামলা নেতানিয়াহুর সেই প্রতিশ্রুতিকে কার্যত তছনছ করে দিয়েছে।

সাম্প্রতিক একাধিক জরিপ থেকে জানা গেছে, নেতানিয়াহু এবং তার দল লিকুদ পার্টির ওপর থেকে ইসরায়েলের সাধারণ ভোটারদের একটি বড় অংশ তো বটেই, এমনকি জোটসঙ্গী দলগুলোও আস্থা হারিয়ে ফেলছে।

কিন্তু তারপরও তারা লিকুদ পার্টির জোট তেকে বেরিয়ে যাচ্ছে না, কারণ মুহূর্তে যদি সরকার পতন হয়— তাহলে দুয়ারে কড়া নাড়তে থাকা নির্বাচনের আগে নতুন আরেকটি সরকার গঠন করা অত্যন্ত কঠিন।

কারণ, যদি আগাম নির্বাচনের বিল পাস না-ও হয়— তাহলেও সাংবিধানিক বিধি অনুযায়ী এ বছর অক্টেবরের শেষ দিকে ইসরায়েলে নির্বাচন হবে।

তাছাড়া নেতানিয়াহু হলেন ইসরায়েলের প্রথম প্রধানমন্ত্রী, যার বিরুদ্ধে আদালতে দুর্নীতি মামলার বিচার চলছে। গত ছয় বছর ধরে চলছে এই মামলার বিচারকাজ।

দুর্নীতির মামলা থেকে অব্যাহতি পেতে কিছুদিন আগে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট ইসাক হেরজগের কাছে আবেদন করেছিলেন নেতানিয়াহু। তার জবাবে প্রেসিডেন্ট হেরজগ বলেছেন, নেতানিয়াহু যদি রাজনীতি থেকে পুরোপুরি অবসরে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন— তাহলে এই আবেদন তিনি বিবেচনা করবেন।

প্রেসিডেন্ট হেরজগের এই প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়ায় এখন পর্যন্ত সম্মতি কিংবা অসম্মতি— কিছুই জানাননি নেতানিয়াহ।

তাছাড়া নেতানিয়াহুর স্বাস্থ্যগত ব্যাপারটিও গুরুত্বপূর্ণ। ৭৬ বছর বয়সী নেতানিয়াহু গত বছর প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তার আগে ২০২৩ সালে হৃদপিণ্ডে পেসমেকার বসিয়েছেন তিনি।

নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ৩ জনের নাম শোনা যাচ্ছে— রক্ষণশীল ইহুদি নেতা নাফতালি বেনেত, বামঘেঁষা নেতা এবং বর্তমানে নেসেটের বিরোধী দলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ এবং ইসরায়েলের সাবেক সেনাপ্রধান গাদি এইজেনকোৎ।