খেলার মাঠে বিপজ্জনক গ্যাস সিলিন্ডার
মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি তিন ম্যাচ সিরিজের শেষ দিনে খেলা শেষে ট্রফি নিয়ে সিরিজ জয়ের উল্লাস করবে বাংলাদেশ। তখনই দুই প্রান্ত থেকে খেলোয়াড়দের ওপরে রঙিন টুকরো কাগজের কনফেত্তি ছড়িয়ে পড়বে। কনফেত্তি বাতাসে ভর করে উপরে দিকে ছড়িয়ে দিতে ব্যবহার করা হয় গ্যাস সিলিন্ডার এবং এটি রঙিন ধোঁয়া ছড়ায়।
নির্দিষ্ট চাপ তৈরি করে কনফেত্তি উড়ে গিয়ে নিচের দিকে নেমে আসে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন এটি ব্যবহারে কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। কিন্তু মিরপুর স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক খেলার মাঠে গ্যাস সিলিন্ডার মাঠের ভেতরে ঘাসের ওপর রাখা হয়। এভাবে রাখাটা নিয়ম বহির্ভূত। যে কোনো সময় বিপদ ঘটতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারে নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম রয়েছে। কারণ চাপযুক্ত যেকোনো গ্যাস সিলিন্ডার তাপমাত্রার প্রভাবে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। আর তাতে কয়েক শ ফুটের বাইরেও যে কেউ প্রাণ হারাতে পারেন। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া নিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলো বলছে, চাপযুক্ত সিলিন্ডার মাঠে প্রবেশ করানোর আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যথাযথ অনুমতি ও নিরাপত্তা প্রটোকল মানতে হবে। বিস্ফোরণ প্রতিরোধ করতে এক ধরনের কনটেইনার ব্যবহার করতে হবে। কোনোভাবেই সিলিন্ডার মাটিতে শুয়ে রাখা যাবে না। সিলিন্ডারটি একটি স্ট্যান্ডে দাঁড় করিয়ে রাখতে হবে।
মিরপুর স্টেডিয়ামে সেসবের বালাই ছিল না। খেলার মাঠে, উন্মুক্তভাবে রাখা হয়েছে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস সিলিন্ডার। যেখানে হাজারো দর্শক ও খেলোয়াড়ের উপস্থিতিতেই মাঠে গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে প্রবেশ করা হয়। প্রশ্ন উঠেছে, এই ধরনের গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার কতটা নিরাপদ?
গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারে যদি উৎসবের নামে কী ভয়াবহ বিপদের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কিছু হয়নি বলে কথা উঠেনি। দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা ছিল। যারা সিলিন্ডার নিয়ে মাঠে উন্মুক্ত স্থানে রেখেছেন তাদের কাছে নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে দ্রুত সরে যান। এবং সংশ্লিষ্টরা গ্যাস সিলিন্ডারটি চোখের আড়াল করতে ঢেকে দেওয়া হয়। গ্যাস সিলিন্ডার যারা ব্যবহার করবেন তাদের কারো গায়ে নিরাপত্তা পোশাক ছিল না। হাতেও গ্লাভস ছিল না।