যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে এক নারীর মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে এক নারীর মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসে অভিবাসনবিরোধী এক অভিযান চলাকালে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এজেন্টদের গুলিতে ৩৭ বছর বয়সী এক নারী নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই চাঞ্চল্যকর সংবাদটি প্রকাশ করেছে। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি লালচে রঙের গাড়ি সড়কে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে দাঁড়িয়ে ছিল এবং আইসিই এজেন্টরা সেটিকে ঘিরে ধরেন। গাড়িটি সামান্য পেছনের দিকে গিয়ে পুনরায় সামনের দিকে এগোতে শুরু করলে এজেন্টরা লক্ষ্য করে পরপর তিনটি গুলি ছোড়েন, যার ফলে ওই নারীর মৃত্যু হয়।

এই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের মুখপাত্র ট্রিসিয়া ম্যাকলাফলিন আইসিই এজেন্টদের পক্ষ সমর্থন করে এক বিবৃতিতে জানান যে, নিহত নারী এজেন্টদের লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা করেছিলেন। কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, ওই নারী গাড়ি চালিয়ে তাদের আঘাত করতে চাইলে আইসিই কর্মকর্তা আত্মরক্ষার্থে গুলি চালাতে বাধ্য হন। এ

মনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই ঘটনায় নিহত নারীকে একজন ‘পেশাদার উসকানিদাতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে মন্তব্য করেছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের এই অনমনীয় অবস্থান অভিবাসনবিরোধী অভিযানের ক্ষেত্রে তাদের কঠোর নীতিরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে প্রশাসনের এই ‘আত্মরক্ষার’ দাবি নাকচ করে দিয়েছেন। মেয়র জানান যে, তিনি ঘটনার ভিডিও ফুটেজটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং সেখানে সরকারি দাবির সপক্ষে কোনো প্রমাণ মেলেনি। 

ভিডিওতে দেখা দৃশ্য এবং আইসিই কর্মকর্তাদের বর্ণনার মধ্যে ব্যাপক গরমিল থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলের আশপাশের এলাকায় ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষ অভিবাসন কর্মকর্তাদের এমন ‘বেপরোয়া’ আচরণের নিন্দা জানিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি তুলছেন।