লন্ডন গেলে যে বাড়িতে থাকেন মার্কিন প্রেসিডেন্টরা

লন্ডন গেলে যে বাড়িতে থাকেন মার্কিন প্রেসিডেন্টরা

লন্ডনের কেন্দ্রস্থলে সাতটি ফুটবল মাঠের সমান জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এক প্রাসাদের নাম উইনফিল্ড হাউজ। যা যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সরকারি বাসভবন হিসেবে পরিচিত। তবে এটি শুধু কূটনৈতিক বাসভবনই নয়, বরাবরই এটি ছিল এক পার্টি হাউজ—বিশেষ করে ৪ জুলাই, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসে।

চলতি বছর এই দিনটি উদযাপন করতে প্রাসাদের লনে হাজির হয়েছিলেন হাজারো অতিথি, যেখানে প্রধান শিল্পী হিসেবে পারফর্ম করেন নাইল রজার্স ও চিক।

উইনফিল্ড হাউজ এমন এক জায়গা, যেখানে ফ্যাশন দুনিয়ার তারকা, ক্রীড়াবিদ থেকে শুরু করে বিশ্বযুদ্ধকালীন নেতারাও অতিথি হয়েছেন। বাড়িটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বলছে, ১৮২৫ সালে যখন এই জায়গায় মূল স্থাপনাটি নির্মিত হয়, তখনও এর মূল উদ্দেশ্য ছিল বিনোদন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার রাষ্ট্রীয় সফরের প্রথম রাত কাটিয়েছেন এই ৩৫ কক্ষের প্রাসাদে। এর আগে ২০১৯ সালের ট্রাম্প এইউইনফিল্ড হাউজেই ছিলেন। ওবামা ও বাইডেন দম্পতিও এখানেই ছিলেন সফরকালে।

এটি শুধু রাষ্ট্রদূতের বাসভবন নয়, এটি একটি কূটনৈতিক আতিথেয়তার কেন্দ্র বলে জানান স্টিফেন ক্রিসপ, যিনি ৩৭ বছর উইনফিল্ড হাউসের প্রধান গার্ডেনার হিসেবে কাজ করেছেন এবং গত বছর অবসর নিয়েছেন।

তবে এটি কোনো পর্যটনকেন্দ্র নয়। রিজেন্টস পার্কের অভ্যন্তরে অবস্থিত বাড়িটি এতটাই ব্যক্তিগত ও নিরাপদ, যে বাইরে থেকে একে দেখা যায় না। ঘন বৃক্ষাবৃত এলাকাটি কেন্দ্রীয় লন্ডনের মধ্যেই থেকেও রীতিমতো অদৃশ্য।

এখানে ঢোকা সত্যিই খুব কঠিন। আমি এটিকে নিজের জন্য এক ধরনের অর্জন বলে মনে করি বলে উল্লেখ করেন ভিভ ওয়ার্ড, যিনি ফ্রেন্ডস অব রিজেন্টস পার্ক-এর ইভেন্ট ম্যানেজার। তিনি বাড়িটিকে অসাধারণ বলে উল্লেখ করেন এবং তার বর্ণনায় এই স্থাপনার প্রতি মুগ্ধতা স্পষ্ট।

প্রাসাদটির ভেতরে ভ্রমণসুযোগ সীমিত। শুধুমাত্র নিচতলা—যেটি মূলত অভ্যর্থনা ও অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য ব্যবহৃত হয়—এবং বাগান এলাকা ঘুরে দেখা যায়। উপরের তলাজুড়ে রয়েছে রাষ্ট্রদূত ও তার পরিবারের ব্যক্তিগত আবাস।

এই বাড়িটি সময়ানুবর্তিতার দিক থেকেও কড়াকড়ি। ভিভ ওয়ার্ড বলেন, এটা এমন নয় যে আপনি ইচ্ছামতো তারিখ বেছে গিয়ে বলতে পারবেন, আমরা এই দিনে আসতে চাই। বরং, আপনাকে বলা হবে কোন দিনে আসতে পারবেন।

সাবেক গার্ডেনার স্টিফেন ক্রিসপ জানান, উইনফিল্ড হাউজের রয়েছে লন্ডনের দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যক্তিগত বাগান। এখানে রয়েছে সবুজ লন, পাথরের হাঁটার পথ, ভাস্কর্য এবং এমনকি হেলিকপ্টার অবতরণের ব্যবস্থাও।