চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় ৯৮ জনের নামে মামলা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় ৯৮ জনের নামে মামলা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে টানা দুই দিনের সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে হাটহাজারী থানায় একটি মামলা ও একটি জিডি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। মামলায় ৯৮ জনের নাম উল্লেখ করে এক হাজার জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম।

তিনি বলেন, সংর্ষের ঘটনায় একটি মামলা আর চবির নিরাপত্তা দফতরের দেশীয় অস্ত্র লুটের ঘটনায় একটি জিডি করা হয়েছে। আর আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে যা করার সব করছি। শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করব তারা- যেন দ্রুত ক্লাস-পরীক্ষায় ফেরে। শিক্ষার্থীদের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

হাটহাজারী থানার ওসি আবু কাউসার মোহাম্মদ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, চবিতে সংঘর্ষের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

উল্লেখ্য, শনিবার (৩০ আগস্ট) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট সংলগ্ন একটি ভবনের ভাড়াটিয়া এক ছাত্রীর সঙ্গে ভবনের নিরাপত্তারক্ষীর বাগবিতণ্ডার জেরে মধ্যরাতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। তাতে শিক্ষার্থী, প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য, উপ-উপাচার্যসহ কয়েকশ’ ব্যক্তি আহত হন। সংঘাতের মধ্যে রবিবার দুপুর ২টা থেকে ক্যাম্পাস ও আশপাশে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। সেটি এখনও বহাল আছে।

এদিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় গুরুতর আহত দুই শিক্ষার্থীকে লাইফ সাপোর্টে এবং একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। লাইফ সাপোর্টে নেওয়া দুইজন হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ আহমেদ (২৪) ও সমাজতত্ত্ব বিভাগের মামুন মিয়া (২৩)।

এছাড়া ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী নাইমুল ইসলামকে (২৪) ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। রোববার রাত ১০টার দিকে চট্টগ্রামে অস্ত্রোপচারের পর তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নাইমুল ইসলামের রক্তনালীতে আঘাতজনিত (ভাস্কুলার ইনজুরি) কারণে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে।

এদিকে গুরুতর আহতরা কাতরাচ্ছে হাসপাতালের বেডে। আহতদের মধ্যে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী মাথায়, হাতে-পায়ে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছে। যারা কিছুটা সুস্থ হয়েছে তাদের ছাড়পত্র দিয়ে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, রোববার বিকাল পর্যন্ত সংঘর্ষে আহত ১১৪ জন চবি শিক্ষার্থীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে এবং বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে আরও ৩০ জন চিকিৎসা নিতে যান। এছাড়া প্রায় ৩ শতাধিক শিক্ষার্থী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা নিয়েছেন। সোমবার দুপুর পর্যন্ত চমেক হাসপাতালে ৮ জন এবং বেসরকারি পার্কভিউ হাসপাতালে ৫ জন চিকিৎসাধীন ছিলেন।