কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলে হাড়কাঁপানো শীত, চরম দুর্ভোগে লাখো মানুষ

কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলে হাড়কাঁপানো শীত, চরম দুর্ভোগে লাখো মানুষ


শীতের তীব্রতা বেড়ে চলেছে কুড়িগ্রামে। মৃদু শৈত্যপ্রবাহের সঙ্গে হিমেল বাতাস ও ঘন কুয়াশায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাতভর বৃষ্টির মতো শিশির ঝরছে, ভোর থেকে কুয়াশায় ঢেকে থাকছে চারপাশ। আজ জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ, যা শীতের অনুভূতি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) এই তথ্য জানিয়েছেন রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার।

১৬টি নদ-নদীর তীরঘেঁষা কুড়িগ্রাম জেলার আয়তন প্রায় সাড়ে আটশ বর্গকিলোমিটার। জেলার ৪৬৯টি চরের মধ্যে ২৬৯টিতে মানুষের বসবাস রয়েছে। এসব চরে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ বসবাস করেন। 

অধিকাংশ চর শীতপ্রবণ হওয়ায় হিমেল বাতাসে কার্যত ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন চরবাসীরা। বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার কুড়িগ্রাম সদর, উলিপুর, ভূরুঙ্গামারী, চিলমারী, রৌমারী, চর রাজিবপুর ও নাগেশ্বরীর চরাঞ্চলগুলোতে শীতের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি।

কুড়িগ্রাম সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কালীর আলগা চরের ইউপি সদস্য হোসেন আলী জানান, তার চরে প্রায় তিন হাজার মানুষের বসবাস। এর মধ্যে বৃদ্ধ ও শিশুসহ অন্তত পাঁচ শতাধিক মানুষ শীতবস্ত্রের অভাবে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।

চরের বাসিন্দা ৬০ বছর বয়সী কোবাদ হোসেন বলেন, আমরা গরিব মানুষ। পরার মতো মোটা কাপড় নাই। রাতে ঘুমাতে গেলে ঠান্ডায় শরীর জমে যায়। একই চরের গৃহবধূ মমিনা বেগম (৫৫) বলেন, শীতের কাপড় পাই না। কেউ আমাদের খোঁজও নেয় না।

শীতের কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বৃদ্ধ, শিশু ও দিনমজুর শ্রেণির মানুষ। অনেক দিনমজুরের কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উপার্জন না থাকায় পরিবার নিয়ে চরম দুর্ভোগে দিন কাটছে তাদের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চাহিদার তুলনায় এই সহায়তা অত্যন্ত অপ্রতুল। চরাঞ্চলে শীতে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। দ্রুত পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র বিতরণ ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।